আমেরিকার গৃহযুদ্ধ: যখন নিজের দেশের মানুষই একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল - ১২ এপ্রিল

 

১৮৬১ সালের ১২ এপ্রিল। ঠিক আজকের এই দিনে আমেরিকার ইতিহাসে ঘটেছিল এক ভয়ানক ঘটনা। চারদিকে কামানের গর্জন আর ধোঁয়ায় ছেয়ে গিয়েছিল আকাশ। শুরু হয়েছিল এমন এক যুদ্ধ, যেখানে লড়াইটা ছিল ভাইয়ে-ভাইয়ে, এক প্রতিবেশীর সাথে আরেক প্রতিবেশীর। একেই আমরা জানি 'আমেরিকান সিভিল ওয়ার' বা আমেরিকার গৃহযুদ্ধ নামে।

আমেরিকার গৃহযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দৃশ্য - ১২ এপ্রিল।

কেন বেঁধেছিল এই লড়াই?

​তখনকার সময়ে আমেরিকার উত্তর আর দক্ষিণ—এই দুই দিকের মানুষের চিন্তাভাবনা ছিল একদম আলাদা। উত্তর দিকের মানুষেরা চাইত আধুনিক কল-কারখানা গড়তে। কিন্তু দক্ষিণ দিকের রাজ্যগুলোর মানুষের পুরো জীবন চলত চাষবাসের ওপর। আর এই চাষের কাজের জন্য তারা তখন মানুষকে কেনাবেচা করত (যাকে আমরা দাসপ্রথা বলি)

​উত্তরের মানুষরা চেয়েছিল এই প্রথা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে এবং সব মানুষকে সমান অধিকার দিতে। কিন্তু দক্ষিণের মানুষরা তা মানতে রাজি ছিল না। এই জেদ থেকেই শুরু হয় রক্তক্ষয়ী এক সংঘাত।

আব্রাহাম লিংকন ও তাঁর স্বপ্ন

​ঠিক এই সময়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্রাহাম লিংকন। তিনি ছিলেন এক সাধারণ পরিবারের মানুষ, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। তিনি চেয়েছিলেন আমেরিকা যেন ছোট ছোট ভাগে ভাগ না হয়ে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে টিকে থাকে। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, কোনো মানুষকে আর বন্দী করে বা জোর করে খাটানো যাবে না; সবাই হবে স্বাধীন।

প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের গম্ভীর ও বাস্তবসম্মত পোট্রেট।

ভয়াবহ সেই দিনগুলো

​টানা চার বছর ধরে এই যুদ্ধ চলেছিল। আমেরিকার মাটি ভিজে গিয়েছিল নিজের দেশের মানুষেরই রক্তে। গেটিসবার্গের মতো বড় বড় যুদ্ধক্ষেত্রে হাজার হাজার তরুণ প্রাণ হারিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছিল ন্যায়ের। ১৮৬৫ সালে যুদ্ধ শেষ হয় এবং আমেরিকার সব মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ পায়।

আমাদের আজকের শিক্ষা 

আজকের শক্তিশালী আমেরিকা কিন্তু এমনি এমনি তৈরি হয়নি। আজকের এই ১২ই এপ্রিল আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটা দেশ তখনই শক্তিশালী হয় যখন সেখানে কোনো ভেদাভেদ থাকে না এবং সব মানুষ সমান মর্যাদা পায়। ইতিহাসের এই শিক্ষা আমাদের বর্তমান জীবনেও অনেক বড় পথপ্রদর্শক।

আজকের বিষয়টি আপনাদের কেমন লাগলো কমেন্টে আপনাদের মতামত জানাতে পারেন 👇

Post a Comment

0 Comments