আজকের ইতিহাস: আধুনিক শিল্পের জাদুকর: পাবলো পিকাশো - ৮ এপ্রিল

 

বিংশ শতাব্দীর শিল্পকলা বললেই যার নাম সবার আগে আসে, তিনি হলেন পাবলো পিকাশো। ১৮৮১ সালে স্পেনে জন্মগ্রহণ করা এই মহান শিল্পী চিত্রকলার জগতকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিলেন। কিউবিজম (Cubism) নামক এক নতুন ধারার প্রবর্তক হিসেবে তিনি সারা বিশ্বে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

নিজের স্টুডিওতে একটি ধ্রুপদী ল্যান্ডস্কেপ পেইন্টিং তৈরি করছেন পাবলো পিকাশো - সাদা কালো ছবি।

​১৯৭৩ সালের ৮ই এপ্রিল, ৯১ বছর বয়সে ফ্রান্সের মুগিন্স-এ তিনি পরলোকগমন করেন। তাঁর দীর্ঘ জীবনে তিনি প্রায় ১৩,৫০০টিরও বেশি ছবি এঁকেছেন। তাঁর চিত্রকর্মে যেমন ছিল গভীর বেদনা, তেমনি ছিল যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং জীবনের অদ্ভুত সৌন্দর্য। তাঁর আঁকা 'গুয়ের্নিকা' (Guernica) চিত্রকর্মটি আজও যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

​পিকাশো বিশ্বাস করতেন, প্রতিটি মানুষের ভেতরেই একজন শিল্পী লুকিয়ে থাকে। শিল্প এবং জীবন নিয়ে তাঁর দর্শন ছিল অত্যন্ত গভীর।

পাবলো পিকাশোর সেই বিখ্যাত উক্তি:"

সব শিশুই একজন শিল্পী। সমস্যা হলো বড় হওয়ার পরও সেই শিল্পীসত্ত্বা ধরে রাখা।"

পাবলো পিকাশো সম্পর্কে ৩টি অবাক করা তথ্য:

​১. প্রথম শব্দই ছিল 'পেন্সিল': বেশিরভাগ শিশু বড় হয়ে প্রথম 'মা' বা 'বাবা' বলে ডাকলেও, পিকাশোর মুখ থেকে বের হওয়া প্রথম শব্দটি ছিল স্প্যানিশ ভাষায় "piz" (পিজ)—যা দিয়ে তিনি পেন্সিল বুঝিয়েছিলেন। জন্মের পর থেকেই তার রক্তে ছিল আর্ট!

​২. চুরি হওয়া মোনালিসা এবং পিকাশো: ১৯১১ সালে যখন বিশ্ববিখ্যাত 'মোনালিসা' পেইন্টিংটি চুরি হয়েছিল, তখন পুলিশ কিন্তু পিকাশোকেও সন্দেহভাজন হিসেবে জেরা করেছিল! পরে অবশ্য প্রমাণিত হয় যে তিনি নির্দোষ ছিলেন।

​৩. সবচেয়ে বড় রেকর্ড: গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, পিকাশো বিশ্বের সবচেয়ে কর্মঠ শিল্পী। তিনি তার দীর্ঘ জীবনে প্রায় ১,৫০,০০০-এর বেশি শিল্পকর্ম (ছবি, ভাস্কর্য, সিরামিক) তৈরি করেছেন!

আজকের টিপস:মানসিক স্বাস্থ্য ও সৃজনশীলতা 

​পিকাশো ৯১ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন এবং শেষদিন পর্যন্ত কাজ করেছেন। তার এই দীর্ঘায়ু এবং সজীব মস্তিষ্কের রহস্য ছিল তার সৃজনশীলতা।

কেন আমাদের সবারই অন্তত একটি শখ (Hobby) থাকা দরকার?

পাবলো পিকাশো বলতেন, প্রতিটি শিশুই শিল্পী। বড় হওয়ার সাথে সাথে আমরা আমাদের সেই সৃজনশীলতা হারিয়ে ফেলি। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, দিনে মাত্র ১৫-২০ মিনিট কোনো সৃজনশীল কাজ (যেমন: ছবি আঁকা, ডায়েরি লেখা বা বাগান করা) করলে আমাদের মস্তিষ্কের 'কর্টিসল' (Cortisol) বা স্ট্রেস হরমোন নাটকীয়ভাবে কমে যায়।

আজকের পরামর্শ: প্রতিদিন কাজের ফাঁকে অন্তত ১০ মিনিট এমন কিছু করুন যা আপনার শৈশবের শখ ছিল। এটি আপনার হার্ট ভালো রাখবে এবং বার্ধক্যকে দূরে ঠেলে দেবে।

Post a Comment

0 Comments

/**/